This post is also available in:
English
Malay

সিনোপসিস/সারকথা
মালয়-মুসলমান রেস্তোরাঁ মালিক রহিম তার সম্প্রদায়ের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রচারিত একটি ভাইরাল বার্তার খপ্পড়ে পড়েন। বার্তাটি লিমকে নিয়ে (একজন মালয়েশিয়ান চাইনিজ ব্যবসায়ী), যিনি রান্নার উপকরণ বিক্রি করেন। তবে তার কিশোরী মেয়ে হানিস এই (ভাইরাল) বার্তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বার্তাটি ছড়িয়েছিল রাস্তার অপর প্রান্তের একজন রেস্তোরাঁ মালিক, যিনি সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সম্মানিত ব্যক্তি।
বিকেলে (যখন রহিম তার রেস্তোরাঁয় ব্যস্ত) তার মেয়ে স্কুল থেকে লিমের মেয়ে মে’র (May) সঙ্গে ফিরে আসে। রহিম বিস্মিত হয়, যখন হানিস মে-কে কিছুদিনের জন্য তাদের সঙ্গে থাকার অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন। কারণ মে-য়ের তার বাবার সঙ্গে সম্পর্ক বেশ তিক্ত। প্রথমে অনিচ্ছুক থাকলেও রহিম রাজি হয়। সেই সময়ে রহিম জানতে পারে যে, মে-য়ের বাবার সম্পর্কে (লিম) মিথ্যা খবর ছড়িয়ে পড়ার কারণে মে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। (লিমের প্রতি) মে-এর ক্ষোভ জানানো রহিমকে লিমের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে, কারণ রহিম লিমের মাঝে নিজের পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা খুঁজে পান। যখন লিম তার মেয়েকে রহিমের বাড়িতে দেখতে আসে, তখন রাস্তার অপর প্রান্তের সেই রেস্তোরাঁ অপারেটর (যিনি লিম সম্পর্কে মিথ্যা খবর ছড়িয়েছিলেন) তা পর্যবেক্ষণ করেন। কিছুদিন পর রহিম নিজেও গুজবের শিকার হন, যেখানে বলা হয় তিনি লিমের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এই গুজবের কারণে রহিমের ব্যবসা ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে রহিম লিমের পণ্যের প্রকৃত মান আবিষ্কার করেন এবং একটি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের কথা ভাবেন। তবে, যখন হানিস তা জানতে পারে, তখন সে তার বাবার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, কারণ সে-ও এখন স্কুলে এবং সামাজিক মাধ্যমে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে মে তার বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ দৃশ্যে লিম তার মেয়েকে নিতে রহিমের রেস্তোরাঁয় আসে। পূর্বের উত্তেজনা সত্ত্বেও হানিস তার বাবার সঙ্গে মে-কে বিদায় জানাতে যোগ দেয়। যাওয়ার আগে মে রহিমের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
পরিচালকের জীবনী

মালয়েশিয়ার পেনাং দ্বীপের বাসিন্দা ইন্তান সাকিনা (২৩) একজন চমৎকার গল্পকার এবং সঙ্গীতশিল্পী। তিনি মাল্টিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিনেমাটিক আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণ দক্ষতা উন্নতকরণে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁর প্রথম ফিচার-লেংথ ডকুমেন্টারি “ফেস-টু-ফেজ” ২০২১ সালে কাল্ট ক্রিয়েটিভ দ্বারা প্রদর্শিত হয়, এবং ২০২৩ সালে রান্তাই আর্ট ফেস্টিভালে তাঁর দুটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। ইন্তানের কাজ মানুষের গল্প, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের উপর। একজন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠার কারণে, তিনি অটিজম সচেতনতার জন্যও একজন জোরালোভাবে কাজ করছেন। তাঁর নানান আগ্রহের মধ্যে আছে, ফ্যান্টাসি লেখা, গামেলান ( ইন্দোনেশিয়ান বাধ্যযন্ত্র) সুর রচনা। ইন্তানের অনন্য সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি তার গল্প বলার চমৎকার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে প্রতিনিয়ত।
পরিচালকের বার্তা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতিগত বিভক্তিকে যেভাবে (নেতিবাচকভাবে) উস্কে দেয়া হয়, তা মালয়েশিয়ায় খুব কমই আলোচিত হয়েছে। যদিও অ-মীমাংসীত জাতিগত সংকট মালয়েশিয়ায় বিদ্যমান (বিশেষ করে ভূমিপূত্র ও মালয়দের অধিকার নিয়ে), ডিজিটাল দুনিয়ায় এর প্রভাব কি, তা নিয়ে আলোচনা অনেকটাই উপেক্ষিত। এই সমস্যাটি আরো বেশী ঘটে “থ্রি আর” (ধর্ম, জাতি ও রাজতন্ত্র প্রশ্ন) এর প্রেক্ষাপটে।
জাতিগত দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে ডিজইনফর্মেশন কিভাবে কাজ করে, তা আমি এই চলচ্চিত্রে এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করেছি। রক্ষণশীল মালয় জনগোষ্ঠী প্রায়ই অ-মুসলিমদের (বিশেষ করে চাইনিজদের) প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রায়ই এমন সব পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে অ-মুসলিমদের পণ্য বয়কট করার ডাক দেয়া হয়। এমনটাও অনেক সময় বলা হয়ে থাকে যে, অমুসলিমদের পণ্য হালাল না; তবে তারা এমনভাবে প্যাকেজ করে যাতে মনে হয় যে, এইসব পণ্য মুসলিমদের দ্বারা তৈরী।
একজন মালয় মুসলমান হিসেবে আমি প্রতিনিয়ত এ ধরণের পোস্টের সম্মুখীন হই, এমনকি আমার পরিবারের গ্রুপ চ্যাটেও। আমি মনে করি, এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, যার সমাধান দরকার। একজন তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আমার প্রজন্মের মালয়দের উচিত এই সমস্যাগুলি উপলব্ধি ও চিহ্নিত করা এবং আরো গণতান্ত্রিক একটি মালয়েশিয়া তৈরীর জন্য কাজ করা।

