This post is also available in:
English
Malay

সিনোপসিস/সারকথা
হাই আনিস অনলাইন গ্রুমিং এর বিপদজনক জালে আটকে পড়া এক টিনেজারের গল্প। একাকী ও বন্ধুবান্ধবহীন আনিস, আজহার নামক এক প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের কাছ থেকে অ্যাটেনশন পেতে শুরু করে। আজহার তাকে নিরাপদ ও সুখী বোধ করায়। বড় বোন কাক লং সতর্ক করলেও আনিস আজহারের সুন্দর কথাবার্তা, গভীর রাতের ভিডিও কল এবং গোপন সাক্ষাৎকারে মত্ত হয়ে থাকে।.
তাদের সম্পর্ক যতোটা আগায়, ততোটা পাল্লা দিয়ে বাড়ে আজহারের ছলচাতুরীমূলক আচরণ। আনিসকে রক্ষা করার নামে সে আনিসের কাছ থেকে তার সামাজিক মাধ্যমের পাসওয়ার্ড জেনে নেয় এবং তাদের সাক্ষাৎকারের সময় গোপনে ঘনিষ্ঠ ছবি তোলে। আজহারের আনিস এর উপর নিয়ন্ত্রণ ও অবসেসিভ আচরণ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন আনিস এসব কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেঃ সে বারবার বলতে থাকে যে, আনিস ও সে বিয়ে করবে এবং আনিসের তার কথা মেনে চলা উচিত।
গল্পটি ক্লাইমেক্সে পৌছায়, যখন আজহার কাক লং এর ফোনে আনিসকে হূমকী দিয়ে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠায়। সেখানে সে বলে, আনিস যদি তাকে বিয়ে না করে, তবে সে তাদের সকল ঘনিষ্ঠ ছবি ইন্টারনেটে উন্মুক্ত করে দেবে।
অরক্ষিত কিশোর-কিশোরীদের অনলাইনে লোলুপ শিকারিরা যেভাবে ছলা-কলা ও শোষণ করে, তার একটি শক্তিশালী উপস্থাপনা আমরা দেখতে পাই “হাই আনিস” চলচ্চিত্রে। একইসাথে, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান বিপদ ও ডিজিটাল হয়রানি সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে এই চলচ্চিত্র।
পরিচালকের পরিচিতিঃ

আটাশ বছর বয়স্ক আজুরা নাসরন একজন সামাজিক ন্যায়বিচার কর্মী, যার কাজের ক্ষেত্র মানবাধিকার। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব মালয়া-র সাউথ ইস্ট এশিয়া স্ট্যাডিজে মাস্টার্স সম্পন্ন করছেন। মানবাধিকার এনজিও সুয়ারামে (SUARAM) প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে তার দায়িত্ব বিভিন্ন নিপীড়নমূলক আইন বাতিল করণ এবং মালয়েশিয়ায় মানবাধিকার প্রচারের বিভিন্ন উদ্যোগ তত্ত্বাবধান। এছাড়া, আজুরা লিগ্যাল ডিগনিটি নামক একটি সংগঠনের পার্টনার। এই সংগঠন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আইনী অধিকার রক্ষায় কাজ করেন।
রেকর্ড মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি ডকুমেন্টারি, পডকাস্ট এবং অন্যান্য ইভেন্টের মাধ্যমে রাজনৈতিক আলাপচারিতাকে জনমুখী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজুরার একাডেমিক স্বাধীনতার প্রতি আনুগত্য এবং জার্নাল সাঙ পেমুলা-এর মতো প্রকাশনায় লেখা প্রকাশ একটি বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণ এবং নিপীড়নমূলক নিয়মনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিজ্ঞাকে প্রকাশ করে।
পরিচালকের বার্তা
এই চলচ্চিত্রে আমি অনলাইনে নিরাপত্তা, গ্রুমিং ও সেক্স এডুকেশন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। প্রিডেটরী তথা “শিকারী” পুরুষরা সুরক্ষা ও ‘বোঝাপড়া’-র ভান করে যেভাবে অরক্ষিত বা ভালনারেবল তরুণীদের আকৃষ্ট করে, তা দেখানো ছিল এই চলচ্চিত্রের একটি মুখ্য উদ্দেশ্য। আনিসের গল্পের মাধ্যমে আমার চলচ্চিত্রটি ওইসব কৌশলকে প্রকাশ করে, যা অনেক শিকারী পুরুষ প্রথমে বিশ্বাস অর্জন ও পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য ব্যবহার করে। এটা আরো প্রকাশ করে যে, ডিজিটাল দুনিয়ায় বিদ্যমান এই বিপদগুলো আমাদের অফলাইন জীবনেও সমান প্রভাব রাখতে পারে। এই চলচ্চিত্রটি ডিজিটাল অধিকার, সম্মতি ও অনলাইন দুনিয়ার বিভিন্ন লুকায়িত বিপদ সম্পর্কে সচেতনতার উপর জোর আরোপ করে। আনিসের অনলাইন ও অফলাইন উভয় অভিজ্ঞতা চিত্রায়িত করার মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে পরিবার, সম্প্রদায় ও সমাজের দায়িত্ব নিয়ে একটি উন্মুক্ত ডায়লোগ তথা আলোচনা সৃষ্টি করতে চেয়েছি আমি।

