হুইসপার অব দি ইংক

This post is also available in: English Malay

সিনোপসিস/সারকথাঃ

সাদা-কালো সিনেমাটোগ্রাফিতে বানানো “হুইসপার অব দ্যা ইংক” রাশেদ নামের একজন নির্ভীক শিল্পীর গল্প তুলে ধরে। রাশেদ সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং শহরের দেয়ালগুলোতে প্রতিবাদী কার্টুন এবং চিত্রকর্ম তৈরি করেন। তার গর্ভবতী স্ত্রী রুনা আন্দোলনে যোগ দিতে আগ্রহী থাকা সত্ত্বেও বাড়ির বাইরে যেতে পারছে ন না। রুনার প্রসবকালীন সময়ে দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয় বিধায় ওই সময় কোনো ধরনের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাওয়া দুর্লভ হয়ে ওঠে৷ সেই মূহুর্তে রাশেদ কারফিউয়ের মাঝেই সাহায্য খুঁজতে বের হোন।

সেই সময় একটি সিকিউরিটি চেকপোস্টে রশিদকে আক্রমণাত্মক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় এবং তাঁর ফোন জোর পূর্বক তল্লাশি করা হয়। কর্মকর্তারা তার ফোনে প্রতিবাদী চিত্রকর্ম দেখতে পায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর কার্যকলাপ দেখে তাকে গ্রেপ্তার কররা হয়। প্রসবের সময় রুনা যখন একা, তখন সে নিজের অজান্তেই রশিদের কালি উল্টে ফেলে, যা ছড়িয়ে পড়ে রশিদের চিত্রকর্মের উপর৷ এই দৃশ্য একটি অনুপ্রেরণাময় প্রতিরোধকে প্রতিনিধিত্ব করেঃ কালির মতো (যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে) মানুষের ক্ষোভও নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে।

পরিচালকের জীবনী

ইশতিয়াক আহমদ জিহাদ (২৪) বাংলাদেশের একজন তরুণ পরিচালক, যিনি সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র ও মিডিয়া অধ্যয়ন বিভাগ থেকে নিজের পড়ালেখা শেষ করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে গড গিফট নামের একটি নীরিক্ষাধর্মী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়ে সিনেমা জগতে সৃজনশীল যাত্রা শুরু করেন। স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি নানা ধরনের গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাঁর পরিচালিত ছায়া মরিচের বনে (২০২১), যা মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি ‘ওয়ান-টেক’ স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র। ইশতিয়াক বেশ কয়েকটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তার পরিচালিত চলচ্চিত্র রান অ্যাওয়ে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। “রান এওয়ে” বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, এবং ইংল্যান্ডে বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্ট এ ছয়টি পুরস্কার অর্জন করেছে, এবং ইউকে ফিল্ম রিভিউ এই চলচ্চিত্রকে “বিউটিফুলি ট্রাজিক” বলে প্রশংসিত করে। ইশতিয়াক বর্তমানে দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (২০২৫) নামে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করছেন।

পরিচালকের বিবৃতি

“হুইসপার অব দ্যা ইংক” এর পরিচালক হিসেবে, আমার লক্ষ্য ছিলো এমন একটি সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা যা ব্যক্তিগত গল্পগুলিকে অতিক্রম করবে এবং রাজনৈতিক দমন-নিপীড়নের মুখে শিল্প এবং প্রতিরোধের শক্তির একটি বৃহত্তর বয়ান হয়ে উঠবে৷ ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটা জুলাই আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের রোষানলে পড়া একটি জাতির দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রামকে গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলে।

সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাশেদ নামের একজন কার্টুনিস্ট এবং তার স্ত্রী রুনার পারস্পরিক সম্পর্ক। সিনেমায় রাশেদ নিজের আঁকা কার্টুনের মাধ্যমে জনগণের হতাশা এবং আর্তনাদ তুলে ধরে। আমি এই দম্পতির মাধ্যমে সকল মুক্তিকামী মানুষের নি:স্বার্থ ত্যাগের কথা বলতে চেয়েছি, যারা সর্বদা ন্যায় এর পক্ষে লড়েছেন। সিনেমায় রুনার চরিত্র ওইসব নেপথ্যের নায়কদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা একজন স্ত্রী, মা কিংবা প্রিয়জন হিসেবে ভয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে তাঁদের ভালোবাসার মানুষের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় থাকে।

রাশেদের কার্টুনে আক্ষরিক কালির ব্যাবহার কিংবা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রূপক অর্থে কালি (ইংক) একটি পুনরাবৃত্তিমূলক মোটিফ হয়ে উঠে। কালি (ইংক) কে একটি চিন্তা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়েছে যা মুছে ফেলা যায় বা লুকানোও যায়, ঠিক যেমন ভাবে আন্দোলন দমনে করা সহিংসতাকে সরকারি বাহিনী আড়াল করে রাখে। তারপরও কাগজে কালির ফিরে আসার সম্ভাবনা সবসময়ই থেকে যায়। দমন নিপীড়নের মধ্য থেকেই নতুন শিল্প, নতুন কন্ঠস্বর, এবং প্রতিবাদী গল্প জন্ম নেয়।

এই সিনেমা তৈরির জন্য আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে মানুষের স্পিরিট। সর্বোচ্চ নিষ্ঠুরতা ও নিপীড়ন এর মাঝেও মানুষ নিজের অধিকারের পক্ষে কথা বলার এবং প্রতিবাদ করার পথ খুঁজে বের করে।

Latest News in