This post is also available in:
English
Malay

সিনোপসিস/সারকথাঃ
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটা জুলাই আন্দোলন কালীন আরিফ নামের একজন গিগ কর্মী (যিনি ক্রাচে ভর করে হাঁটেন) সরকার কর্তৃক হঠাৎ ইন্টারনেট এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নতার সাথে মানিয়ে নিতে সংগ্রাম করেন। তাঁর কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার কারনে তাঁর সহকর্মী রাকিব জানান যে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়ে গেছে। মায়ের হাসপাতাল বিল পরিশোধের জন্য রাকিবের জরুরি টাকা প্রয়োজন ছিলো। আরিফের ছেলে নিয়ন, স্কুল ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বাড়িতে বন্দী অবস্থায় অস্থির হয়ে ওঠে। আন্দোলন অব্যাহত থাকলে কিছু অদ্ভুত স্বপ্ন আরিফকে ঘুমের মধ্যে তাড়া করে বেড়ায়, যা মূলত তার অস্থিরতারই প্রতিফলন। এই অনিশ্চিত সময়ে আরিফ এবং তাঁর পরিচিতজনদের সহনশীলতা এবং ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
পরিচালকের জীবনী

তাওসিন মো. বাহাদুর শাহ জাফর (২৪) একজন উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র এবং ফটোগ্রাফি বিভাগে পড়াশোনা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টেলিভিশনের প্রযোজক এবং ‘ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশন’ এর পিস ফেলো হিসেবে তিনি কন্টেন্ট তৈরি এবং কার্যকরী স্টোরিটেলিং-এ মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাঁর ডকুমেন্টারি “বানিয়ান – এ সাইলেন্ট উইটনেস” ২০২৪ সালে মুক্তিযুদ্ধ ডকফেস্ট বাংলাদেশ এবং পিস ফিল্ম ফেস্টিভালে পুরস্কার জিতেছে। তাওসিন “প্রলয় – এ স্টোরি অফ অ্যানিহিলেশন” এবং “ডিভাইস” এর মতো শর্ট ফিল্ম পরিচালনা ও সম্পাদনা করেছেন, যা তাঁর আবেগীয় ও মানসিক গভীরতা এবং কাহিনীর গতি সৃষ্টির দক্ষতা প্রদর্শন করে।
সম্পাদনা এবং পোস্ট-প্রোডাকশনে তাঁর দক্ষতা রয়েছে, যিনি “অব্যক্ত” এবং “খাঁচা ভাঙার গল্প” এর মতো প্রকল্পে কাজ করেছেন। তাওসিন বিশ্বাস করেন, চলচ্চিত্রের সারা বিশ্বের দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করার সার্বজনীন সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন অন্ডারগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (URA) হিসেবে তাওসিন একটি প্রকল্পে কাজ করেছেন, যা বাংলাদেশে OTT প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রভাব অনুসন্ধান করেছে। এই গবেষণায় তিনি বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। এছাড়াও, তিনি ট্রান্সক্রিপশন কার্যক্রম ও নৈতিক পর্যালোচনার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন।
তাঁর সর্বশেষ প্রবন্ধ “এআই’স রোল ইন দি ফিউচার অব ফিল্মমেকিং”, যা ইনোভেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (ITD) এর তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়।
পরিচালকের বার্তাঃ
একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে জাতীয় সংকট চলাকালীন যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার সাথে আমি গভীর ভাবে একাত্মতা বোধ করি। জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আমরা যেসব যন্ত্রণা এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, সেইসব মূহুর্তই অনুপ্রাণিত করেছে “দি ব্ল্যাক কাইট”-কে। আমি সেই দিনগুলো পার করে এসেছি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থা ভেঙে পড়ার ফলে যেসব ব্যাক্তিগত কষ্ট ও সামষ্টিক হতাশার সৃষ্টি হয়েছিলো, তা ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করেছি।
সিনেমার নায়ক আরিফের অভিজ্ঞতার মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে এই সংগ্রামগুলো। তিনি শুধুমাত্র ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারনে কষ্ট পাচ্ছে না, বরং সে একইসাথে তীব্র হতাশাগ্রস্ত। তাঁর চলাচলের মাধ্যম ক্রাচ দেশের স্থবির অবস্থারই প্রতিনিধিত্ব করে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং রাকিবের ইঞ্জুরি দেশের সকল মানুষের মানসিক যন্ত্রণা কে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরে।


এই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহুর্ত গুলোর মাঝে একটি হচ্ছে আরিফের স্বপ্ন। তাঁর স্বপ্নের রক্তমাখা চাল এবং অনবরত গুলির দৃশ্য প্রতিফলিত করে কীভাবে নিপীড়ন এবং বিশৃঙ্খলা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। একইসাথে এটি মনে করিয়ে দেয় যে, সংকটের সময় কোনোকিছুই নিরাপদ বা ভয় থেকে মুক্ত নয়।
“দ্যা ব্ল্যাক কাইট” মূলত মানসিক দৃঢ়তার একটি গল্প। সিনেমার চরিত্র আরিফের গল্প এগিয়ে যাওয়ার গল্প, এমনকি তখনো যখন সবকিছু অসম্ভব মনে হয়। আরিফের ছেলে নিয়ন হচ্ছে আগামী প্রজন্মের প্রতীক — সম্ভাবনাময় কিন্তু উঠে দাঁড়ানোর জন্য সুযোগের অপেক্ষায়, যেমন একটি ঘুড়ি যা উড়ার জন্য প্রস্তুত।
এই চলচ্চিত্রটি আমার জন্য খুবই ব্যাক্তিগত। কারন এটা শুধুমাত্র ২০২৪ সালে আন্দোলন কালীন সংগ্রামকেই তুলে ধরে নি, একইসাথে এই চলচ্চিত্র একটি সুন্দর আগামীর বার্তা জানায়। আমি আশা করি “দ্যা ব্ল্যাক কাইট” এর মাধ্যমে দর্শকরা তাদের নিজস্ব অসহায় মুহুর্তগুলোর কথা ভাববেন এবং বুঝবেন যে পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেনো, দৃঢ়তার মাধ্যমে সকল চ্যালেঞ্জ কে অতিক্রম করা সম্ভব।
